ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সমস্যায় পড়া পাঁচটি ইসলামি ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোক্তা-শেয়ারধারীরা দাবি করেছেন- ব্যাংকটিকে অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত না করে তাদের হাতে পুনরায় পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হোক।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান এসআইবিএলের উদ্যোক্তা শেয়ারধারী, সাধারণ বিনিয়োগকারী ও গ্রাহকরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোক্তা পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল হক।
রেজাউল হক বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এসআইবিএল শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছে। কিন্তু ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ জোরপূর্বক ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ব্যাপক অনিয়ম শুরু হয়, ফলে ব্যাংকটি আর্থিক সংকটে পড়ে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘এখন বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই ব্যাংকটিকে এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠিত ও লুট করা কয়েকটি রুগ্ণ ব্যাংকের সঙ্গে জোর করে একীভূত করার চেষ্টা চলছে। এটি গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীর জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হবে।’
রেজাউল হক আরও জানান, উদ্যোক্তা শেয়ারধারীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক শেয়ার নেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে তারা ইতোমধ্যে আদালতে রিট করেছেন এবং রুল জারি হয়েছে। তাই আদালতের বিচারাধীন বিষয় উপেক্ষা করে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকার একীভূতকরণের উদ্যোগ নিতে পারে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক যে পাঁচটি রুগ্ণ ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে- এসআইবিএল, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ইসলামী ব্যাংক। এসব ব্যাংক মিশিয়ে একটি বৃহৎ ইসলামি ব্যাংক গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার প্রাথমিকভাবে নতুন ব্যাংকের জন্য ২০,২০০ কোটি টাকা মূলধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা পরে ৩৫,২০০ কোটি টাকায় উন্নীত হবে।
এসআইবিএলের উদ্যোক্তাদের দাবি, প্রকৃত উদ্যোক্তা ও শেয়ারধারীদের হাতে ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্ব দিলে দ্রুত ব্যাংক পুনরুজ্জীবিত হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক অনভিজ্ঞ স্বাধীন পরিচালকদের মাধ্যমে ব্যাংক পরিচালনা করায় গ্রাহকের আস্থা কমে যাচ্ছে এবং আমানত প্রত্যাহারের প্রবণতা বাড়ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
তাদের প্রস্তাব, অযৌক্তিক একীভূতকরণের পরিবর্তে বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা উচিত। প্রয়োজনে দেশি-বিদেশি নতুন বিনিয়োগকারীকেও সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে উদ্যোক্তারা ব্যাংক পুনর্গঠনের কয়েকটি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে-
- খ্যাতনামা ব্যবসায়ী গ্রুপ ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করে তারল্য প্রবাহ বাড়ানো,
- ব্যাংকের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক (১৮১টি শাখা, ২৪০টি উপশাখা ও ৩৭০টি এজেন্ট আউটলেট) কাজে লাগানো,
- রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়িয়ে বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা,
- দক্ষ জনশক্তিকে পুনর্বিন্যাস করে বিপণন কার্যক্রম জোরদার করা,
- সরকারি, বেসরকারি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ২২টি কালেকশন অ্যাকাউন্ট পুনঃসক্রিয় করা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এসআইবিএলের উদ্যোক্তাদের মধ্যে জাবেদুল আলম চৌধুরী, আবদুর রহমান, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।