আরও শিথিল হলো খেলাপি ঋণ অবলোপনের শর্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক | ব্যাংক-বীমা
নভেম্বর ২২, ২০২৫
আরও শিথিল হলো খেলাপি ঋণ অবলোপনের শর্ত
ছবি : সংগৃহীত

খেলাপি ঋণ অবলোপন করে আর্থিক বিবরণী থেকে আলাদা করে রাখার শর্ত আরও শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ঋণ অবলোপনের মাত্র ১০ কর্মদিবস আগে ঋণগ্রহীতাকে নোটিশ দিয়ে অবলোপনের বিষয়ে জানাতে হবে।

গত মাসে দেওয়া নির্দেশনায় ৩০ দিন আগে নোটিশ দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ক নির্দেশনা সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

মন্দমানে শ্রেণিভুক্ত হওয়া ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলো শতভাগ নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ করে অবলোপন করার মাধ্যমে খেলাপি কম দেখাতে পারে। গত বছর শেষে অবলোপন করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের এক নির্দেশনায় ঋণ অবলোপনের শর্ত শিথিল করে বলা হয়,  যেসব ঋণ টানা দুই বছর মন্দ ও ক্ষতিজনক মানে শ্রেণি করা রয়েছে, কেবল সেসব ঋণ অবলোপন করা যাবে। গত অক্টোবরের নির্দেশনায় অন্তত দুই বছর খেলাপি থাকার শর্ত শিথিল করা হয়। তবে ৩০ দিন আগে নোটিশ দিতে বলা হয়েছিল। এখন সেই শর্ত আরও শিথিল করা হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঋণ অবলোপনের ক্ষেত্রে বহুদিন ধরে ঝুলে থাকা ঋণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১০ কর্মদিবস আগে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাকে নোটিশ দিয়ে বিষয়টি জানাতে হবে। এতে ঋণ অবলোপনে নোটিশের সময় কমলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতের দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়ে ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকায় ঠেকেছে, যা ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ৪৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। ২০২৩ সাল শেষে এমন ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। এক বছরে বেড়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা বা ৫২ শতাংশ। দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে পুনঃতপশিল করা অনাদায়ী ঋণ রয়েছে তিন লাখ ৪৮ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। নিয়মিত খেলাপি হিসাবে দেখানো হয়েছে তিন লাখ ৪৬ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। এ ছাড়া অবলোপন করা অনাদায়ী ঋণস্থিতি বেড়ে ২০২৪ সাল শেষে ৬২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকায় ঠেকেছে।

ব্যাংক-বীমা'র অন্যান্য খবর

সর্বশেষ