শেয়ারবাজারে চার দিন টানা ধস, বিনিয়োগকারীদের চোখেমুখে আতঙ্ক—এরপর আজ দৃশ্যপট বদলে গেল। সূচক ঘুরে দাঁড়াল, লেনদেনে এলো গতি, আর মুখে ফিরল স্বস্তির ছাপ। এনবিআরের বিতর্কিত চিঠি ঘিরে যে ধাক্কা বাজারকে নিচে নামিয়ে দিয়েছিল, সেই জট কাটতেই ফের বাজারে ফিরেছে আশার হাওয়া।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দিনের শুরু থেকেই সূচক ছিল উর্ধ্বমুখী। যদিও মাঝপথে সামান্য মন্দা দেখা দিয়েছিল, তবে দুপুরের পর থেকে সূচক আবারও স্থিরভাবে উপরের দিকে উঠতে থাকে। শেষ ঘণ্টায় সূচক কিছুটা দোদুল্যমান থাকলেও দিনের শেষে ঊর্ধ্বমুখী ধারাই বজায় থাকে।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আজ ৪৫.১৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৯২.৬৫ পয়েন্টে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস বেড়েছে ১৩.৪৩ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ বেড়েছে ১৮.৯৯ পয়েন্ট। সূচকের এই ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে লেনদেনও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। আজ লেনদেন হয়েছে ৫৭৬ কোটি টাকার শেয়ার, যা আগের দিনের তুলনায় ১০৮ কোটি টাকার বেশি। গত কর্মদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৬৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকার।
আজ ডিএসইতে মোট ৩৯৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৮৯টির, কমেছে ৬০টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ৪৮টির। অর্থাৎ বাজারে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশের শেয়ারদর বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসার একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও সূচক বেড়েছে। তবে সেখানে লেনদেনে কিছুটা শ্লথতা দেখা গেছে। আজ সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১০ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। আগের দিন এই বাজারে লেনদেন হয়েছিল ১২ কোটি ৭০ লাখ টাকার, অর্থাৎ দিনের হিসেবে লেনদেন কমলেও সূচক ছিল ইতিবাচক। সিএসইতে আজ মোট ১৯৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১০৬টির, কমেছে ৮১টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ১১টির। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২ পয়েন্ট, অবস্থান করছে ১৫ হাজার ৫৫.৩৯ পয়েন্টে। এর আগের দিন এই সূচক কমেছিল ৫৩.০২ পয়েন্ট।
শেয়ারবাজারে টানা পতনের পেছনে মূল কারণ ছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিতর্কিত চিঠি। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, সেই চিঠির কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা লেনদেন থেকে বিরত থাকেন। এর ফলে বাজারে সূচক টানা নিচে নেমে যায়। তবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে এনবিআর তাদের অবস্থান থেকে সরে আসে। এর পর থেকেই বাজারে ধীরে ধীরে আস্থা ফিরে আসে এবং সূচক উর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে।
বাজারে আজকের উত্থানকে বিনিয়োগকারীরা ইতিবাচক ধারা হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ বাজারের প্রতি আস্থা ফিরিয়েছে। বিশেষ করে টানা চার কার্যদিবসে ১৮৬ পয়েন্ট পতনের পর সূচকের এমন ঘুরে দাঁড়ানোকে বিনিয়োগকারীরা স্বস্তির নিশ্বাস হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা আরও বাড়বে এবং লেনদেনে গতি ফের আসবে।