মৌসুমের শুরুতে শুঁটকি পল্লীতে শ্রমিকদের কাজের ধুম। বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার শ্রমিক কাজের খোঁজে শুঁটকি পল্লীতে এসে কাজে ব্যস্ত সময় কাটায়। স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার পায়রা নদী তীরবর্তী জয়ালভাঙ্গা, মরানিদ্রায় ফকিরহাট, আশারচর ও সোনাকাটা নদীর পাড়ে মৌসুম ভিত্তিক শুঁটকি পল্লীগুলোতে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত দেখা যায় ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য। শুঁটকি পল্লীতে জেলে, আড়তদার, মহাজন, পরিবহন শ্রমিকসহ প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়। এখানকার শুঁটকি দেশ বিদেশে রপ্তানি হয়ে থাকে।
শুঁটকি পল্লী গুলোতে এক সিজন কাজ হয়। প্রতি বছর নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ৫ মাস শ্রমিকরা দিন রাত কাজ করেন। শুটকি পল্রীতে রয়েছে নানাবিধ সমস্যা। বড় সমস্যা হচ্ছে নাজুক অবকাঠামো, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবা। নারী শ্রমিকরা নিরাপদ টয়লেটের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েন তরা। তাছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় শ্রমিক অসুস্থ হলে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিতে ভাড়া বাবদ অতিরিক্ত খরচ গুনতে হয়। অপর দিকে ব্যবসায়ীরাও পরিবহন ব্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
শুঁটকি ব্যবসায়ী দুলাল বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায়ই আমাদের লোকসান গুনতে হয়। আর যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়া গুনতে হয়।
শুঁটকি ব্যবসায়ীদের ভাষ্য মতে তালতলীর উৎপাদিত শুঁটকিতে কোনো প্রকার ওষুধ বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। ফলে তালতলীর শুঁটকি দেশের বাজারের পাশাপাশি বিদেশেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা, সৈয়দপুর, জামালপুর, মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন ও দুবাইতে রপ্তানি হয় এসব শুঁটকি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মিরাজ বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চার মাসে এক থেকে দেড় লাখ মণ শুঁটকি উৎপাদন সম্ভব। সরকার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিলে তালতলীর শুঁটকি শিল্প আরও অধিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বয়ে আনতে সক্ষম।
জেলা মৎস্য অফিস জানায়, দেশে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে মোট ৩ হাজার ৩৮ টন শুঁটকি রপ্তানি হয়ে ৭৬ কোটি টাকার বেশি আয় হয়েছে। বরগুনার তালতলী এই খাতের সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত।
শ্রমিকদের অভিযোগ, নারী ও কিশোরদের অপেক্ষাকৃত কম মজুরিতে কাজে লাগানো হয়। দৈনিক মজুরি নারী ও কিশোরদের জন্য ৩০০ টাকা এবং প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ৫০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত হলেও মাছের সরবরাহ কম থাকায় অনেকেই দীর্ঘদিন বেতন পান না। কিশোর শ্রমিক রেজাউল করিম জানান, মাস তিনেক ধরে কাজ করেও এখন পর্যন্ত কোনো মজুরি পাননি। মৌসুমে বহু শ্রমিক পরিবারসহ খুপরি ঘর তৈরি করে পল্লীতেই বসবাস করেন।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেবক মন্ডল বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় বেশ কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা শ্রমিকদের কল্যাণে নানাবিধ কাজ করছে। তাদের সুবিধার্থে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ এবং টিউবওয়েল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নেও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।