তরমুজে লাখপতি মাধবপুরের আলম

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি | কৃষি ও প্রাণীসম্পদ
নভেম্বর ১২, ২০২৫
তরমুজে লাখপতি মাধবপুরের আলম
হবিগঞ্জের মাধবপুরে তরমুজ খেতে আলম মিয়া। ছবি : উদ্যোগনিউজ

এক সময় শুধু ধান চাষ করতেন মাধবপুরের কৃষক আলম মিয়া। অল্প জমিতে চাষাবাদ করে পরিবার নিয়ে  চলতে হিমশিম কেত।গত দুবছরে তার ভাগ্যে ঘুরিয়ে দিয়েছে আগাম জাতের সুইট ব্ল্যাক টু তরমুজ চাষে। 
এখন আলম মিয়া স্বপ্ন দেখছেন হজ— করার। সংসারের খরচ চালিয়ে কয়েক লাখ টাকা আলম মিয়া এখন সঞ্চয় হয়। তরমুজ চাষে ঘুরে যাওয়ার জীবন নিয়ে কথা বলেন। 
চৌমুহনী ইউনিয়নের  হরিণখোলা গ্রামের আলম মিয়ার তরমুজ খেতে বুধবার গিয়ে পাওয়া যায় তাকে। কয়েক দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফা  তরমুজ বিক্রি হবে তার। প্রতি কেজি তরমুজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি খেত থেকে কিনে নিয়ে যাবে পাইকাররা। তার জমিতে লাগানো সুইট ব্ল্যাক-টু তরমুজ রসালো, সুমিষ্টি হওয়ায় এর বাজারে এর চাহিদা বেশী। 
মালচিং ও আর্গানিক পদ্বতিতে আগান জাতের তরমুজ চাষে সহযোগিতা করছে জাতীয় ভাবে পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক বধু মিয়া। তিনি মাধবপুরে কৃষির ডাক্তার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এলাকার কৃষক কৃষি জমিতে কোনো ধরনের সমস্যা রোগ বালাই দেখা দিলে ডাক পরে বধু মিয়া। আলম মিয়া বলেন জমিতে ধান চাষ করে লাভবান হতে পারছিলাম না। সংসারের গ্লানি টানতে গিয়ে কিছুটা ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়ি। হতাশ হয়ে প্রায় দুই বছর আগে একদিন পাশের গুপিনাথপুরে জাতীয় ভাবে পুরস্কারপ্রাপ্ত সফল কৃষক মধু মিয়ার শরণাপন্ন হই এবং কৃষিতে কিভাবে সফল হতে পারি তার কাছ থেকে পরামর্শ চাই। তিনি আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি ও তরমুজ চাষের পরামর্শ দেন। 
গেল বছর বধু মিয়ার কাছ থেকে সুইট ব্ল্যাক টু তরমুজ বীজ সংগ্রহ করি।১৬০শতাংশ জায়গায় আগাম জাতের তরমুজ মালচিং পদ্ধতিতে আবাদ করি। অর্গানিক ভাবে তরমুজ চাষ করে ৬০দিনে তরমুজ পরিপক্ক হয়ে বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে। প্রতিটি তরমুজ দেড় থেকে ২ কেজি হয়। ১৬০ শতাংশ তরমুজ আবাদ করতে গিয়ে দুই ছেলে, স্ত্রী পরিশ্রম প্রথমবারেই সফলতার মুখ দেখি। খরচ হয় প্রায় লাখ টাকা। বিক্রি করে সাড়ে তিন লাখ টাকা। বছরে দুবার একই জমিতে তরমুজ চাষ করে পরে ধান চাষ ও করা যায়। অল্প জমিতে অধিক লাভবান হওয়া যায় তরমুজ চাষে তাই এবারও  ১৬০শতাংশ জায়গায় আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করেছে  তরমুজ। এবার তার খরচ হয়েছে এক লাখ ৩০হাজার টাকা। এবার ফলন হয়েছে ভালো। বিক্রি হবে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। 
আলম মিয়া বলেন তরমুজ চাষে আমার পরিবারে স্বচ্ছতা ফিরে এসেছে। এজন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হজ্বে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন তিনি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায় মাধবপুর উপজেলায় চৌমুহনী ইউনিয়নে কয়েক বছর আগে পরীক্ষামূলক বিভিন্ন জাতের  তরমুজ চাষ শুরু করেন কৃষক বধু মিা ও আমজাদ খান। এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষে উপযোগী হওযায় তারা সফল হন এবং সরকারিভাবে পুরস্কৃত হন। এখন উনাদের কৃষক বধু অনুসরণ করে এ অঞ্চলে তরমুজ চাষের কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আগাম জাতের তরমুজ আবাদ করে হয়েছেন অনেকেই স্বাবলম্বী। 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার বলেন, উপজেলার চৌমুহনী  ইউনিয়নের মাটি তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। চলতি বছরে  উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নে প্রায় শতাধিক একর জমিতে আগাম জাতের তরমুজ চাষাবাদ করা হয়। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হয়ে থাকে।এখানকার তরমুজের গুণগত মান ভালো। কৃষক  বধু মিয়া জানান, চৌমুহনীর উৎপাদিত তরমুজ রাজধানীর কাওরান বাজার, চট্টগ্রামের রিয়াজ উদ্দিন বাজার, বাদামতলীর পাইকারি বাজারে চলে যায়। গুণগত মান ভালো হওয়ায় দিন দিন এ অঞ্চলের তরমুজের চাহিদা বেশী। তরমুজ চাষ করে লাভবান হওয়া যায় তাই এলাকার কৃষকরা দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

কৃষি ও প্রাণীসম্পদ'র অন্যান্য খবর

সর্বশেষ