অনিয়ম প্রশ্রয় না দেওয়ায় রাকাবের এমডি মামলার শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক | ব্যাংক-বীমা
নভেম্বর ৩০, ২০২৫
অনিয়ম প্রশ্রয় না দেওয়ায় রাকাবের এমডি মামলার শিকার
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহিদা বেগম

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওয়াহিদা বেগম ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে তার পুর্বের কর্মস্থল অগ্রনী ব্যাংক ঘিরে মামলা ও সাজার অভিযোগ এনে তাকে নতুন ভাবে ষড়যন্ত্রের জালে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

অহিদা বেগমের পুর্বের কর্মস্থল অগ্রনী ব্যাংকের একাধিক সুত্র ধরে দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায়,ওয়াহিদা বেগম দায়িত্বে না থাকার পরেও ব্যাংকের সুত্র ধরে পুর্বে তার নামে মামলা দায়ের হয়। বিজ্ঞ আদালত সেই মামলায় তাকে তিন মাসের সাজা প্রদান করলেও পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপক্ষ চুল ছেড়া বিশ্লেষণ করতে মামলাটি স্থগিত আদেশ প্রদান করেন।

এর পর অপর পক্ষ মামলাটি পুনরায় চালুর তদবির করলে শুনানির জন্য মামলাটি মহামান্য হাইকোর্টের আদেশের অপেক্ষারত অবস্থায় থাকা কালিন সময়ে রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অহিদা বেগমকে হয়রানি করতে একটি মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ভূল তথ্য দিয়ে আইনী প্রক্রিয়া শেষ হয়ার আগেই রাকাব পরিচালকের বিরুদ্ধে নানা গুজব ছড়িয়ে যোগাযোগ মাধ্যম গরম করে তুলেছেন।

এ ছাড়াও রাকাবের এই নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে আওয়ামীপন্থিদের পুনর্বাসনের অভিযোগও। এমন মন গড়া অভিযোগের বিষয় নিয়ে ফুঁসে উঠেছে রাকাবের একাধিক ক্লিন ইমেজের কর্মকর্তা কর্মচারী। তারা গণমাধ্যম কর্মীদের জানান একটি চক্র সুবিধা না পেয়ে হয়ত ষড়যন্ত্রের মত নোংরা খেলায় মেতে উঠেছেন। তবে ষড়যন্ত্রকারিরা সফল হতে পারবেনা বলেও মন্তব্য করেন একজন রাকাব কর্মকর্তা।


জানা গেছে রাকাবে ওয়াহিদা বেগমের নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করে গত ১৮ নভেম্বর উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন হয়েছে।নিয়োগ কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে পরে রোল জারি করেন উচ্চ আদালত। আদালতের নির্দেশে জানানো হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কর্তৃক জারি করা বিতর্কিত নিয়োগ পত্র কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে ওয়াহিদা বেগমকে নিয়োগ প্রদান করা হয়, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের (বিআরপিডি) ২০২৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির সার্কুলার নম্বর-৫ ব্যাংক-কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ/নিযুক্তি এবং তার দায়-দায়িত্ব সম্পর্কিত নীতিমালার শর্তাবলি অনুসরণ না করে করা হয়েছে। তা আইনগত ক্ষমতা ছাড়া করা বলে ঘোষণা করা না হওয়ার কারণ ৩ সপ্তাহের মধ্যে দর্শানোর জন্য নির্দেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এর আগে, গত ২২ অক্টোবর রাকাবের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুল মালেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর এমডির বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ দেন। তবে আব্দুল মালেকের অভিযোগ দেওয়ার বিষয় নিয়ে কথা বললে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের ঘনিষ্ঠজন সংবাদ চলমান কে জানান এমন অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। তিনি আরো বলেন সরকার কারো ব্যক্তিগত আক্রমন নিয়ে সময় নষ্ট করেনা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন রাকাবের এমডির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং আওয়ামী স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে উল্লেখ করে যে ভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তা সত্যিই দুঃখ জনক। তিনি আরো বলেন অর্থমন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পদোন্নতি পেয়ে ওয়াহিদা বেগম রাকাবে বদলি হয়ে যাওয়ার পরে তার বিরুদ্ধে কোন অনিয়ম অথবা কোন আর্থিক কেলেংকারীর অভিযোগ আমাদের নিকট আসেনি।

অগ্রনী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের একজন ডিজি এম জানান অগ্রণী ব্যাংক পিএলসিতে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় সেখানে ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন ওয়াহিদা বেগম। হটাৎ কেন তাকে সরকারি বিষয় নিয়ে আলোচনা সমালোচনার খোরাক তৈরি করা হচ্ছে এমন বিষয় পরিস্কার নয়।

রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহিদা বেগমের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা সকল সময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেখুন যে মামলাটিকে আমার বিরুদ্ধে মামলা দেখিয়ে রিট করা হয়েছে, সেই মামলাটি প্রকৃত অর্থে আমার বিরুদ্ধে নয় অগ্রণী  ব্যাংকের বিরুদ্ধে | সঙ্গত কারণেই ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে ওই সময় যারা চেয়ারে ছিলেন তাদের নাম সেই মামলায় অন্তর্ভুক্ত আছে | লক্ষ্য করলে দেখবেন মামলার লিস্টে আমার নাম রয়েছে সবার শেষে, কারণ ওখানে কর্মরত আর যাদের নাম ছিল তাদের পরে আমি ওখানে জয়েন করেছি |  একটা কথা এখানে মনে রাখা দরকার যে, মিজান সাহেব শুধু মাত্র অগ্রণী ব্যাংকের বিরুদ্ধেই একশ এর বেশি মামলা করেছেন | যে মামলায় আমার নাম ওখানে যুক্ত হয়েছে, এই মামলার ঘটনাকালীন সময়ে আমি অগ্রণী ব্যাংকে চাকরিতেই যোগ দেইনি |  আমার নাম থাকা মূল মামলার রায় ব্যাংকের পক্ষে আসায় এবং বারবার আমাদের ব্যক্তিগত নামের মামলার শুনানির তারিখ  পিছিয়ে যাওয়ায় আমারই সহকর্মী এবং  রিটকারী এটিকে সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন | সবচেয়ে বড় কথা হলো, রিটকারী যে মামলাকে ফৌজদারি বলছেন সেটি আসলে ফৌজদারী মামলা নয় | এবং তিন মাস সাজার ব্যাপারে সেই রায়ে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে,  অগ্রণী ব্যাংকের এমডি সহ সকলেই  বেধে দেওয়ার সময়ের মধ্যে আদালতে  আত্মসমর্পণ করে তাদের স্ব স্ব শাস্তি গ্রহণ করবেন | আদালতের বেধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই অগ্রণী ব্যাংক সেই সকল শাস্তির স্থগিতাদেশ পেয়েছেন মহামান্য আদালত থেকে | সেই বিবেচনায় সেই রায়ের কোন  দেওয়ানি শাস্তিও আসলে কার্যকর হয়নি | যাইহোক সেটা  মহামান্য আদালত বুঝবে এবং বুঝবে আমার কর্তৃপক্ষ | একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে, ব্যাংকের স্বার্থে আমাকে সকল সিদ্ধান্তই পক্ষপাতহিন হিসেবে নিতে হয় এবং আমি সেভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি | সেখানে কাউকে নৈতিকভাবে  সুবিধা দিতে না পারলে, আমার প্রতি সংক্ষুব্ধ হলে আমার কিছু করার নেই |  যেহেতু বিষয়টি মহামান্য আদালতে উঠেছে এবং মহামান্য আদালত বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন, তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন |  আমার দায়িত্ব পালনের সময়  আগের সময়ের বহু দুর্নীতি অনিয়ম শক্তভাবে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছি | আমি মনে করি,  এগুলো আমার ব্যাংকের স্বার্থে নেয়া সেই সকল সঠিক পদক্ষেপেরই রিফ্লেকশন |

ব্যাংক-বীমা'র অন্যান্য খবর

সর্বশেষ