শ্রমিকদের আন্দোলনের ‘প্রভাব’ শেয়ারবাজারে

উদ্যোগ ডেস্ক | শেয়ার বাজার
নভেম্বর ৩, ২০২৬
শ্রমিকদের আন্দোলনের ‘প্রভাব’ শেয়ারবাজারে

 দেশের শেয়ারবাজারে দরপতনের ধারা অব্যাহত। আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারও (৩ নভেম্বর) শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়েছে।

এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি মূল্য সূচকের বড় পতন হয়েছে।   শ্রমিক বিক্ষোভ ও শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতার পরোক্ষ প্রভাবে শেয়ারবাজারে এই দরপতন হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে শেয়ারবাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে। বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ শেয়ার বিক্রি করে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ফলে বাজারে টানা বড় দরপতন দেখা যাচ্ছে। ডিএসইর এক সদস্য বলেন, এমনিতেই বাজার মন্দার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে গার্মেন্টেসের নূন্যতম মজুরি নিয়ে সৃষ্টি হওয়া অস্থিতিশীল অবস্থা পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও এর ঘটনা ঘটনায় সবার মধ্যেই এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে। যে চাপ বাজার নিতে পারছে না। এজন্যই শেয়ারবাজারে দরপতন হচ্ছে।

ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়ছে। বর্তমান সরকারের আট মাসের মধ্যে এত বড় শ্রমিক আন্দোলন হবে তা প্রত্যাশিত ছিল না। তবে শ্রমিকদের দাবিও অযৌক্তিক নয়। রাজধানী ঢাকায় এমন আন্দোলন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্বেও পড়তে পারে।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে চাপ তৈরির পেছনে শ্রমিক আন্দোলনের চেয়েও বড় কারণ হলো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা। অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ খুব একটা ভালো দেখা যাচ্ছে না। এমনকি ব্যাংকে গিয়েও অনেকে প্রয়োজনমতো টাকা পাচ্ছেন না। এ কারণে মানুষ হাতে নগদ টাকা রাখতে চাইছে। তিনি আরও বলেন, নগদ অর্থের চাহিদা মেটাতে অনেক বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজার থেকে কিছু বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছেন। তারা হাতে নগদ টাকা রেখে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এসব কারণেও বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হচ্ছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। কিন্তু লেনদেনের সময় আধাঘণ্টা পার হওয়ার পরেই বাজারের চিত্র বদলে যায়। দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় নাম লেখায়। লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দাম কমার তালিকা বড় হতে থাকে। ফলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমার পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় পতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়। (জাগোনিউজ)

শেয়ার বাজার'র অন্যান্য খবর

সর্বশেষ